নিজস্ব প্রতিবেদক
কুড়িগ্রামের কচাটাকায় ছোট বোনকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার প্রতিবাদ করায় বড় বোনকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে মামলা; র্যাব-১৩ এর অভিযানে পলাতক প্রধান আসামি গ্রেফতার।
'বাংলাদেশ আমার অহংকার'- এই মূলমন্ত্রকে বুকে ধারন করে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। হত্যার মতো মারাত্মক সামাজিক অপরাধের ক্ষেত্রে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামি এবং তার সহযোগীরা ৫০০০/- টাকার বিনিময়ে ভিকটিম শাহিদা খাতুন এর ছোট বোনকে শারীরিক মেলামেশা করার কুপ্রস্তাব দেয়। বিষয়টি ভিকটিম এবং ভিকটিমের ছোট ভাইকে জানালে তারা গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে গ্রাম্য সালিশ ডাকে। কিন্তু গ্রেফতারকৃত আসামি সালিশের দিন উপস্থিত না থাকার কারনে বিষয়টি অমীমাংসিতই থেকে যায়। এরই জেরে গত ১৪/০১/২০২৬ ইং তারিখ সন্ধ্যা ০৭.৩০ ঘটিকার সময় ভিকটিম রান্না করার জন্য চাল ধুতে বাড়ির উঠানে টিউবওয়েল পাড়ে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা গ্রেফতারকৃত আসামি এবং তার সহযোগীরা মিলে ভিকটিমকে ধারালো অস্ত্র দ্বারা গলা কেটে হত্যা করে। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে ভিকটিমের বাবা মোঃ সাইফুর রহমান বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার কচাকাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৫, তারিখ- ১৬/০১/২০২৬খ্রিঃ, ধারা: ৩০২/১০৯/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০।
ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হত্যাকান্ড হওয়ায় এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, সদর কোম্পানী, রংপুর এর একটি আভিযানিক দল ইং ০৫/০৩/২০২৬ তারিখ রাত ০৯.৪০ ঘটিকার সময় রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানাধীন স্টেশন রোড জনৈক মোঃ আব্দুল মতিন আনছারী এর বসতবাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করে মামলার পলাতক আসামি মোঃ আবুল কালাম (৩৫), পিতা-মৃত হোসেন আলী, সাং-চর হরিকেশ, থানা-কুড়িগ্রাম সদর, জেলা-কুড়িগ্রাম’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানি, মাদক চোরাকারবারীসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।